ফ্রিল্যান্সিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফ্রিল্যান্সিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইমেইল মার্কেটিং এর বর্তমান জনপ্রিয়তা এবং ভবিশ্যত

Raisul Mushfeq


অনলাইন মার্কেটিং এ যারা নতুন আসতে চায় তাদের মধ্য থেকে প্রায়ই একটা প্রশ্ন পাই যে, সোস্যাল নেটওয়ার্কিংএর এই যুগে ইমেইল মার্কেটিং কি এখনও কাজ করে? আমার উত্তর সবসময় হ্যা, এবং বেশিভাগ ক্ষেত্রে তা সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর চেয়েও বেশি কার্যকর হয়। আমার আজকের পোস্টটি ঠিক এই বিষয় নিয়েই লিখা হয়েছে।
ইমেইল মার্কেটিং যে এখনও বহুলভাবে প্রচলিত তা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যদি আপনি নিয়মিত ইমেইল এবং ইন্টারনেট ব্যাবহার করে থাকেন। ইমেইল মার্কেটিং এখনও পুরোপুরি কার্যকর এবং ভবিশ্যতেও এর কার্যকারীতা বন্ধের কোনো লক্ষন নেই। প্রতি মিনিটেই সারা বিশ্বে ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটিরও বেশি ইমেইল আদান প্রদান হয়ে থাকে। এ থেকে সহজেই বোঝা যায় যে কোম্পানি এবং সকল ধরনের কাস্টমার এখনও খুব ভালোভাবেই ইমেইল ব্যাবহার করে থাকেন।
ভবিশ্যতেও যে ইমেইল মার্কেটিং এমনটাই জনপ্রিয় থাকবে সেই যুক্তির পিছনে কিছু কারন আমরা এখানে তুলে ধরলাম:

১. সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর চেয়ে ইমেইল মার্কেটিংএ রয়েছে বিশেষ সুবিধা

ইমেইল মার্কেটিং এখন আর তেমন জনপ্রিয় নয়, এ ভুল ধারনার প্রধান কারন হলো সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা। হ্যা, স্যোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং দিয়ে বেশ সফলতার সাথে মার্কেটিং করা সম্ভব তবে শুধু এক ধরনের মার্কেটিং দিয়ে কখনোই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় না এবং সবার কাছে পৌছানো যায়না। এ বিষয়ে সব সফল কোম্পানিও অবগত রয়েছে।
আমরা বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অনেককেই দেখতে পাই বিভিন্ন স্প্যাম জাতীয় কৌশল অবলম্বন করতে যেমন, ফেসবুক পেজে সবসময় অপ্রোয়জনীয় নানা বিষয় পোস্ট করে সবার সামনে আসা, টুইটারে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় অটোমেটিক টুইট, অটোমেটিক ম্যাসেজ এবং বর্তমানে বহুল প্রচলিত মেম (Meme) শেয়ার করে জনপ্রিয়তা পাওয়া। এ সবগুলোই ব্যাবসার জন্য ক্ষতিকর এবং তা কাস্টমার হারানো ছাড়া আর তেমন কিছু করে না।
অপরদিকে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আগ্রহী কাস্টমার এবং সাবস্ক্রাইবারদের কাছে গুরুত্বপূর্ন ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট শেয়ার করা যায় খুব সহজেই। ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৯০% ব্যাবহারকারী ইমেইল ব্যাবহার করে থাকেন অপর দিকে শুধুমাত্র ৭০% ব্যাবহারকারীরই সেস্যাল মিডিয়া একাউন্ট আছে। এদিক থেকেও ইমেইল মার্কেটিং সর্বোচ্চ সংখ্যক কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মূল ভিত্তি।
কাস্টমার তৈরি করা, কাস্টমারের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি এবং প্রোডাক্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিং এখনও মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহৃত হয়। যদিও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির সাথে কাস্টমারের অনেকটা সরাসরি সম্পৃক্ততা সম্ভব হয়, তবুও ইমেইল আর সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিংকে একে অপরের সাথে তুলনা করা আর আপেল ও পেয়ারা তুলনা করা একই কথা।

 ২. এটি ধীরে ধীরে আরও পরিপক্ক হচ্ছে

ইমেইল মার্কেটিং বেশ সময় ধরে প্রচলিত আছে এবং এই লম্বা সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে ইমেইল মার্কেটিং সেক্টরটি ধীরে ধীরে আরও পরিপক্ক ও কার্যকর হয়ে উঠছে। ইমেইল নিউজলেটার থেকে শুরু করে কোনো প্রোডাক্টের প্রমোশন পর্যন্ত সবকিছু সম্পর্কিত বিভিন্ন ডাটা এখন কোম্পানিগুলো বেশ সহজেই দেখে সেই অনুযায়ী কাস্টমার সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক নতুন টেকনোলজিগুলোও ইমেইল মার্কেটিং এ ব্যাপক সহায়তা করবে তার প্রমান পাওয়া যায়। শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইমেইলের ব্যাবহার হ্রাস পাবে এবং ব্র্যান্ড বা কোম্পানিরে ক্ষেত্রে কার্যকর ক্রস চ্যানেল এক্সপিরিয়েন্স প্লাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা করবে। স্মার্ট ঘড়ি বা এ যাতীয় অন্যান্য ডিভাইসের কল্যানে ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খূলে যাবে এছাড়া মোবাইলে ইমেইল এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে আরও ভালো ও ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট তৈরির প্রয়োজনিয়তাও আরও বেড়ে যাবে যার ফলে স্বভাবতই ইমেইল মার্কেটিং ভবিশ্যতে আরও কার্যকর হবে।

৩. সঠিকভাবে ব্যাবহার করতে পারলে ইমেইল মার্কেটিংই সবচেয়ে ফলপ্রসূ অনলাইন মার্কেটিং

যে সব মার্কেটার মনে করেন যে ইমেইল মার্কেটিং এখন আর কার্যকরী না বা যারা ইমেইল মার্কেটিং করেও ব্যার্থ হয়েছেন তাদের বলতেই হবে যে তারা সঠিকভাবে ইমেইল মার্কেটিং এর শক্তিকে ব্যাবহার করতে পারেন নি। সঠিক ও কার্যকর কৌশল জানা থাকলে খুব সহজেই ইমেইল মার্কেটিং এ সফলতা পাওয়া সম্ভব। ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বেশিভাগ ইমেইলই না পড়া অবস্থায় ইনবক্সে জমা থাকে। এমনটা হলে তা হবে ইমেইলেরই কারনে। ইমেইলটা এমন হতে হবে যা সহজেই কাস্টমারকে আকৃষ্ট করতে পারে এবং তার কাজে লাগে। আকর্ষনীয় ইমেইল কনটেন্ট এর মাধ্যমে ইমেইল মার্কেটিং এর সর্বোচ্চ সুবিধা ইপভোগ করা সম্ভব। তাই কোম্পানির প্রসারের ইমেইল মার্কেটিং করার এখনই অন্যতম সময়।

কেন ছাত্রাবস্থাতেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ

Raisul Mushfeq


লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা যায় কি না এ নিয়ে বিবিন্ন জায়গায় অনেক প্রশ্ন দেখি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, ছাত্রাবস্থাতে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করাটাই সবচেয়ে ভালো। এ সময়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে তা পার্ট টাইম কাজ হিসেবেই নিতে হবে। ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার অনেক সুবিধাগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিশেষ সুবিধা এখানে তুলে ধরেছি।

১. অতিরিক্ত আয়ের পথ

বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ সাধারনত পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশে অন্যান্য উন্নত দেশের ন্যায় লেখাপড়ার পাশাপাশি সরাসরি পার্ট টাইম চাকুরি করার সুযোগ খুবই কম। তাই লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ যোগাতে অনেক ছাত্র-ছাত্রী টিউশনি বেছে নেয়। তবে টিউশনি সবসময় সব জায়গায় পাওয়া যায় না এবং আমার মতো অনেকেরই টিউশনি পড়াতে তেমন আগ্রহ থাকে না। সে ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এক অন্যতম আয়ের মাধ্যম হতে পারে। অনেকের অভিযোগ আছে লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করলে ফ্রিল্যান্সিংএ বা লেখাপড়ায় সময়ের ঘাটতি পড়ে, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি এটা একদমই ভূল ধারনা। কারও যদি সত্যিই ইচ্ছা থাকে তাহলে অন্যান্য দিকে নষ্ট করা সময়ের পরিমান কমিয়ে খুব সহজেই লেখাপড়া ও ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সম্ভব।

২. নিজের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার সুযোগ

সবারই উচিত নিজের পছন্দমতো কোনো কাজকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া। এ সম্পর্কে জর্জ বার্নার্ড শ এর একটি উক্তি হলো “Happy is the man who earns his living by his hobby” অর্থাৎ নিজের শখের কাজ করে যে ব্যাক্তি জীবন ধারন করে সে-ই প্রকৃত সূখী। ছাত্র হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে পরিবার চালানোর মতো কোনো চাপ নেই ফলে এ সময় কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কিছু পরীক্ষা করে নিজের পছন্দমতো সেক্টরে কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যে কোনো কিছু নিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ করার পর যদি কাজটিকে আসলেই তার ভালো না লাগে তাহলে সহজেই সে নতুন কিছু শিখে নতুন সেক্টরে কাজ শুরু করে দিতে পারে। এটিই হলো ছাত্রাবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং এর আসল সুবিধা।

৩. অভিজ্ঞতা অর্জন

লেখাপড়ার পাশাপশি যে কোনো পার্ট টাইম কাজ করার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ অভিজ্ঞতা অর্জন। এ ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং করাটা খুবই ভালো একটি উপায়। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার নিজের কাজের ক্ষেত্র অনুসারে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে থাকে এবং এসব মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন ছোট-বড় কোম্পানী বা ক্লায়েন্টের সাথে তাকে কাজ করতে হয়। এতে করে বাস্তব জীবনে কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে কিছুটা হলেও তার ধারনা আসে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং এর ফলে তার প্রফেশনাল লাইফের ভিত্তি মজবুত হয়। এ ধরনের পার্ট টাইম কাজের ফলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন হয় যা পরবর্তিতে অনেক কাজে লাগে।

৪. নিজেই নিজের বস হওয়া

যে কোনো ব্যাবসায় একজন বস যে রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সারের নিজেরই সেই সকল সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেমন: মাসিক আয় এর লক্ষ্য কত, কখন ছুটি খাওয়া যায়, কোন প্রজেক্টে কাজ করবো অথবা কোথা থেকেই বা কাজটি করবো এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর পাশাপাশি লেখাপড়াও ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে আপনার কোনো বস নেই, আপনি নিজেই নিজের বস। অনেকে প্রোগ্রামিং করতে ভালোবাসে, কেউ আবার আর্টের দিকে আগ্রহ, এছাড়া এমন অনেকেই আছেন যারা সবসময় কম্পিউটারেই সময় কাটান কিন্তু এই সময়টা কোনো অর্থপূর্ন কাজে ব্যায় করতে চান- এমন যে কোনো ক্ষেত্রেই আপনি সহজেই এসব সম্পর্কিত কাজ শিখে তা মার্কেটপ্লেসে করতে পারেন।

৫. অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাজ!

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভবত শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিংই একটি সেক্টর যেখানে অভিজ্ঞতা ছাড়াও শুধু দক্ষতা দিয়েই ভালো আয় করা সম্ভব। আর লেখাপড়া শেষ করেও যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিংকে আপনার ফুল টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে সাধারন একটি চাকুরির চেয়ে বেশ ভালো আয় করা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে একদম প্রফেশনাল ভাবে শুরু করতে হবে তেমন কোনো কথা নেই। আপনি যে সেক্টরে কাজ করতে চাচ্ছেন সেই কাজ এর খুটিনাটি বিষয়গুলো আপনার জানা থাকলেই চলবে। অনেক সময় ক্লায়েন্ট বিশেষ করে নতুন ফ্রিল্যান্সার খুঁজে থাকে কেননা তারা কাজটি করার জন্য অনেক পরিশ্রম আর সময় দিতে আগ্রহী। আর একবার ভালোভাবে কাজ শেষ করতে পারলে ধীরে ধীরে এমন সময় আসবে যে আপনাকে আর কাজের জন্য বসে থাকতে হবে না, কাজই আপনাকে খুজে নিবে।
তাই আর দেরি না করে আপনার ভালো লাগা যে কোনো কাজ ভালোভাবে শিখে নেমে পড়ুন ফ্রিল্যান্সিংএ। যদি সত্যিই দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন আপনাকে আর পকেট খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না বরং চাইলে বাসার খরচেও সাহায্য করতে পারবেন অনায়াসেই।
ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত যে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্টে লিখুন। আমি যত দ্রুত সম্ভব তার উত্তর দেবার চেষ্টা করবো।